• শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩২ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
নীলফামারীতে তিন দিনের ইজতেমা শুরু ভোটের দিনে লিফলেট বিতরণের দায়ে জামায়াত নেতার অর্থদন্ড নীলসাগর ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত, ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ বন্ধ বিশ্ব স্ট্রোক দিবস: স্ট্রোকের ঝুঁকি, রিহ্যাবের সংকট ও পুনর্বাসনে সচেতনতার আহ্বান তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার হত্যা মামলায় মাগুরার সাবেক ওসি ও এসআই জেলহাজতে ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে ৯ কর্মকর্তা প্রত্যাহার সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় জলঢাকা পৌরসভার সাবেক মেয়র গ্রেপ্তার রানীরবন্দরে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী ব্যবসায়ী নিহত “ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী”

বিশ্বসেরা ধনী হলেন জেফ বেজোস

সিসি নিউজ : বিল গেটসকে পেছনে ফেলে প্রথমবারের মত বিশ্বের ধনীদের তালিকায় শীর্ষে অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস। ই-কমার্সের ম্যাগনেট হিসেবে খ্যাত ৫৩ বছর বয়সী জেফ বেজোসের বর্তমান সম্পদের পরিমাণ ৯০.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বৃহস্পতিবার দ্য টেলিগ্রাফ এ খবর প্রকাশ করে।
উল্লেখ্য, ২২ বছর আগে জেফ বেজোসের হাত ধরে যাত্রা হয়েছিল অ্যামাজনের। শুরুতে অনলাইনে বই বিক্রি করত প্রতিষ্ঠানটি। সময়ের সাথে সাথে নানা খাতে ডালপালা ছড়িয়েছে অ্যামাজন। বর্তমানে অ্যামাজন ইনকরপোরেশন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ই-কমার্স ও কাউড কম্পিউটিং কোম্পানি হিসেবে সুপরিচিত।
জেফ বেজোস অ্যামাজনের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তার হাত ধরেই কোম্পানিটি একদিকে যেমন গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করেছে, তেমনি ঘরে তুলেছে শতকোটি ডলারের মুনাফা।
বেজোস বরাবরই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পছন্দ করেন। ঝুঁকি নিয়ে পরীক্ষামূলক প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দে তিনি ভীষণ আগ্রহী। অতীতে অনেক প্রকল্পে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। কিন্তু তা থেকেই শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে গেছেন।
তাই বিশ্বের নিরীক্ষাপ্রিয় প্রধান নির্বাহীদের তালিকায় তাকে প্রথম সারিতেই রাখা হয়।
২০১৪ সালে এক কনফারেন্সে বেজোস বলেন, ব্যর্থতা দিয়েই আমি শতকোটি ডলার কামিয়েছি। এ উপলব্ধি অনেকটা অ্যানেস্থেসিয়া ছাড়া রুট ক্যানেল করার মতো। বাজি জিততে হলে ঝুঁকি নিতে হবে। ঝুঁকি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলে একের পর এক ব্যর্থতা আসবে। কিন্তু একসময় সফলতা আপনার হাতে ধরা দিতে বাধ্য। অ্যামাজনের ‘ফায়ার ফোন’ প্রকল্পে বড় রকমের ঝুঁকি নিয়েছিলেন বেজোস। এতে ব্যয় করেছিলেন ১৭ কোটি ডলার। বেশ কয়েকবার ব্যর্থতার পর ২০১৫ সাল নাগাদ এ প্রকল্পে সফলতার মুখ দেখে কোম্পানিটি, যা অ্যামাজনের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
শুরুতে ক্লাউড কম্পিউটিং বিভাগ অ্যামাজনের ছোট একটি শাখা ছিল। এখন এর ওপর ভর করেই বিশ্বখ্যাত এ কোম্পানি দ্রুত বিকাশ লাভ করছে। আর এটা সম্ভব হয়েছে বেজোসের ঝুঁকি নেয়া ও ভবিষ্যৎ বাজার সম্পর্কে যথার্থ ধারণার কারণে। গুগল ও মাইক্রোসফটের মতো এ খাতের অন্য কোম্পানিগুলো যত দিনে এ বিষয়টি উপলব্ধি করেছে, তত দিনে বেজোস শতকোটি ডলারের বাজার ধরে ফেলেছেন। বেজোস বরাবরই গ্রাহক ও তাদের নিয়ত পরিবর্তশীল চাহিদার বিষয়ে সচেতন। এ কারণে তিনি নিত্যনতুন পণ্য বাজারে এনেছেন। এমনকি গ্রাহকদের অভ্যাস বদলে ফেলতেও ভূমিকা রেখেছেন। অ্যামাজনের কিন্ডেল ই-বুক রিডার তেমনই একটি পণ্য। এটি বাজারে আসার পর মানুষের ছাপা বই পড়ার প্রবণতা অনেক কমে গেছে।
অ্যামাজনের সফলতার আরেকটি মন্ত্র হলো কোম্পানিটি কখনই মুনাফার পেছনে ছোটেনি। বরং গ্রাহকসেবা ও বাজার বিস্তারে মনোযোগ দিয়েছে। এ বিষয়টি অ্যামাজনকে একই খাতের অন্য কোম্পানিগুলো থেকে আলাদা করেছে। অ্যামাজন বড় অঙ্কের মুনাফার বদলে বড় অঙ্কের বিনিয়োগে বিশ্বাসী। আর এ প্রবণতা অন্য কোম্পানিগুলোকে সবসময় চিন্তার মধ্যে রাখে। তারা মনে করে, মুনাফা বৃদ্ধির জন্য এই বুঝি বেজোস বড় কোনো উদ্যোগ নিলেন। কিন্তু গ্রাহকদের চিন্তা ভিন্ন। অ্যামাজনের মুনাফা বৃদ্ধি নিয়ে তাদের মাথাব্যথা নেই। বরং কোম্পানিটি মানুষের জীবনমান আরো সহজ ও উন্নত করছে কিনা, এটা নিয়েই তাদের যত ভাবনা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ